সাম বেদ

সামবেদ-সংহিতা – আরণ্যক কাণ্ড

প্রথম খণ্ডঃ 

 

(৫৮৬) হে উদকবান বজ্রহস্ত ইন্দ্র, তুমি যে অন্নের দ্বারা দ্যু ও পৃথিবী উভয়কে ধারণ করে রেখেছ আমাদের কাছে সেই উত্তম বলকর পুষ্টিকর অন্ন আন।।

(৫৮৭) ইন্দ্র জগতের রাজা, মানুষের রাজা; পৃথিবীতে যে বিশ্বরূপ প্রকটিত তাও তাঁর। তাঁকে যিনি দান উৎসর্গ করেন; ইন্দ্র তাঁকে ধন প্রদান করেন; তিনি স্তুত হলে ধন প্রেরণ করেন।।

(৫৮৮) যে ইন্দ্রের বিপুল আনন্দদায়ক জল ও তেজ এই সমস্ত যা কিছু হয়েছে তা ইন্দ্রের জ্যোতিযুক্ত বজ্রের দ্বারা জাত হয়েছে।।

(৫৮৯) হে বরুণ, আমাদের উপরের পাশ খুলে দাও, নীচের পাশ খুলে দাও, কটিদেশে বন্ধ হয়ে খুলে দাও। তারপর হে আদিত্য, অমৃতরসাস্বাদের জন্য আমরা প্রমাদ রহিত হয়ে তোমার কর্মে নিযুক্ত থাকবো।।

(৫৯০) হে সোম, তোমার ক্ষরণের দ্বারা কৃত যে জল তা আমরা সংগ্রহ করি; আমরা যেন চিরকালই তা সংগ্রহ করতে পারি। সুতরাং মিত্র, বরুণ, আদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী এবং দ্যুলোক আমাদের পূজা গ্রহণ করুন।।

(৫৯১) হে সোমধারা, তোমরা আমাকেও তোমাদের মতই বর্ষণশীল কর।।

(৫৯২) হে ঈশ্বর, তোমার এই সকল বিশ্বধন মানুষদের। আমরা তোমার সেবা করতে ইচ্ছুক, আমরা এই বিশ্বধন কামনা করি।।

(৫৯৪) আমি জলরূপে জাত হবার পূর্বে সর্বপ্রথমে দেবগণের জন্য অমৃতবারিরূপে জাত হয়েছিলাম। যিনি আমাকে দান করেন তিনিই এরূপ বলছেন  আমিই অন্ন, আমিই অন্ন, আমিই অদন্ত অন্ন।।

দ্বিতীয় খণ্ডঃ মন্ত্র সংখ্যা ৭

(৫৯৫) হে ইন্দ্র, এই উজ্জ্বলবর্ণবিশিষ্ট জলকে তুমি কৃষ্ণবর্ণা, লোহিতবর্ণা ও কুটিলাগামিনী নদীসমূহে স্থাপন করেছ।।

(৫৯৬) সূর্যোদয়ের পূর্বে ঊষার আলোক প্রকাশিত হলে (=অতি প্রত্যুষে) হিমকণারূপ উদক ক্ষরিত হয়; অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন দর্শনকারী মাধ্যমিক দেবগণ (=আকাশের মধ্যে অবস্থিত পিতৃগণ নামে অভিহিত রশ্মিগণ) সর্বতোভাবে অন্নের গর্ভ স্থাপন করেন।।

(৫৯৭) ইন্দ্রই উদক ও বিদ্যুতের সম্যক্‌ মিশ্রণকর্তা (=উদক ও বিদ্যুতের মিশ্রণক্রিয়া থেকে বৃষ্টি হয়); তাঁর ইচ্ছামাত্রই রশ্মিগণ যুক্ত হয়। ইন্দ্র বজ্রধারী ও হিরণ্ময়।।

(৫৯৮) হে ইন্দ্র, তুমি উগ্র (=উগ্রকার্যের দ্বারা কর্মকে মিলিত করে থাক); তোমার উগ্রতারূপ সকলপ্রকার রক্ষণ শক্তির দ্বারা অন্নে ও সহস্র ধনে আমাদের রক্ষা কর।

। (৫৯৯) যার নাম প্রথ ও সপ্রথ (=যা অতিবিস্তৃত বলে পরিচিত) যা অনুষ্টুভের হবির হবি সেই রথন্তর সামগানকে ধাতা, সবিতা ও বিষ্ণুর তেজ হতে বসিষ্ঠ আহরণ করলেন।। (৬০০) হে বায়ু, তুমি নিষুতগণকে নিয়ে এস; এই উজ্জ্বল সোমরস তোমার জন্য। তুমি সোম অভিষবকারীর গৃহে যাও।। (৬০১) হে অপূর্ব মঘবান ইন্দ্র, তুমি মেঘহননের জন্য যখন জন্মেছ তখন পৃথিবীকে প্রথিত করেছ আর দ্যুলোককে স্তব্ধ করেছ।।

তৃতীয় খণ্ডঃ মন্ত্র সংখ্যা ১৩

(৬০২) যজ্ঞসাধনভূত যে অন্ন, বল ও জল আমাতে আছে তা পরমেষ্ঠী প্রজাপতি দ্যুলোক আকাশের মত ধারণ করুন।

(৬০৩) হে সোম, তোমার জলরাশি অন্ন বীর্য বর্ধন করুক ও অপশক্তি নাশ করুক; তুমি অমরত্বের জন্য বৃদ্ধিলাভ করে দ্যুলোকে উত্তম অন্ন ধারণ কর।

(৬০৪) হে সোম, তুমি সকল ওষধী, জলরাশি ও পশুদের সৃষ্টি করেছ; তুমি জ্যোতির দ্বারা তমোনাশ করে বিশাল আকাশকে আরও বিস্তৃত করেছ।

(৬০৫) অগ্নিকে আমি পূজা করি, তিনি যজ্ঞের পুরোহিত, ঋত্বিক্‌, হোতা এবং অতি উৎকৃষ্ট ধনদাতা।

(৬০৬) তাঁরা (সপ্ত ঋষিগণ বা রশ্মিগণ) প্রথমে তিনলোকে গোরশ্মিসমূহের নমন অনুমোদন করলেন এবং সপ্তলোকে রশ্মিগণের উৎকৃষ্ট নমন বিষয়ে জানলেন। ঊষাকালে সেই দীপ্ত অরুণবর্ণা রশ্মিগণ উদকের সঙ্গে আবির্ভূত হয়ে পৃথিবীকে স্তব করেছিলেন।

(৬০৭) সমানভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জল একে অন্যের সঙ্গে মেশে; সমান ভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সমুদ্রকে নদীসমূহ প্রীত করে। সেই নির্মল জলরাশি শুচি ও দীপ্যমান অপাং নপাৎ (=অগ্নি) দেবতা অভিমুখে গমন করে।

(৭০৮) কল্যাণময়ী ঊষা সর্বপ্রথমে উচ্চাকাশে দিনের আলো প্রেরণ করে প্রজ্ঞা সৃষ্টি করেন; কল্যাণী রাত্রি দেবী জগতের সকলপ্রাণীর সুখের আশ্রয় স্বরূপা।

(৬০৯) সর্বব্যাপী, বর্ষণকারক, দীপ্তিমান, মহান জাতবেদা অগ্নির উদ্দেশে এই জ্ঞানময় স্তুতি করছি। বিশ্বের প্রিয় বৈস্বানর অগ্নির উদ্দেশে এই নবীন শূচি স্তোত্র সোমের (=জলের মত) নির্গত হচ্ছে।

(৬১০) বিশ্বদেবগণ (=সকল রশ্মিগণ), দ্যুলোক ও পৃথিবী উভয়ে এবং অপাং নপাৎ অগ্নি (=জলের রক্ষক বা জলের পৌত্র অগ্নি) আমার এই বুদ্ধিপূর্বক রচিত স্তোত্র শ্রবণ কর। তোমরা আমার এই স্তোত্র বর্জন কোরো না; তোমাদের আনন্দের মধ্যে বাস করে আমরাও হৃষ্ট হবো।

(৬১১) দ্যুলোক ও পৃথিবী আমাকে যশ (=অন্ন, জল ও সম্পদ) দান করুন, ইন্দ্র ও বৃহস্পতি যশ দান করেন; ভগদেবতার (=সূর্যের) যশ আমি যেন প্রাপ্ত হই; যশ আমাকে সুপ্রকাশিত করুক। যশের সহায়ে আমি সভাতে যেন সুবক্তা হই।

(৬১২) ইন্দ্রর বিরত্বব্যঞ্জক কর্মসমূহ এখনই বলছি। যে কর্মসমূহ বজ্রধারী ইন্দ্র প্রথম থেকেই করে আসছেন। তিনি মেঘকে হনন করেন; পরে বারিরাশিকে ভূমিতে পাতিত করেন; এবং পর্বত ভেদ করে নদীসমূহকে প্রবাহিত করেন।

(৬১৩) আমি অগ্নি, আমি জন্ম থেকেই জ্ঞানযুক্ত, ঘৃত (বা জল) আমার চক্ষু, অমৃত আমার মুখে। আমিই তিন লোক ধারণ করে আছি; আমিই ঋক্‌, আমি অন্তরিক্ষের পরিমাপকারী, আমিই অজস্র জ্যোতি; আমিই সকল হবি (=অন্ন বা জল)।

(৬১৪) বিপ্র অগ্নি রক্ষাকর্তা; তিনি প্রথমে গমনশীল সূর্যের বিচরণস্থল আকাশকে রক্ষা করেন এবং প্রাণবায়ু মরুদ্‌গণকে রক্ষা করেন। মহান অগ্নি দেবগণের হর্ষকেও রক্ষা করেন।

চতুর্থ খণ্ডঃ মন্ত্র সংখ্যা ১২

(৬১৫) হে প্রজ্জ্বলিত জ্যোতির্ময় অগ্নি, তোমার মুখ মধ্যে জিহ্বা বিচরণ করে (=তোমার মধ্যে বাক্‌ অবস্থিত)। হে অগ্নি, হে পরমধন, তুমি আমাদের অন্ন সহ রমণীয় ধন ও তেজ জ্ঞানদৃষ্টির জন্য দান কর।।

(৬১৬) বসন্ত কালই রমণীয়, গ্রীষ্মও রমণীয়, বর্ষাকালের পরে শরৎ হেমন্ত ও শীতকালও রমণীয়।। (৬১৭) পুরুষের (=এই আত্মার) সহস্র মস্তক, সহস্র চক্ষু, সহস্র পদ। তিনি পৃথিবীর সকল দিক ব্যাপ্ত করে দশ আঙ্গুল পরিমাণ অতিরিক্ত থেকে অবস্থান করেন।।

(৬১৮) পুরুষের তিন পদ ঊর্ধ্বমুখী, আর এক পদ (=এক অংশ) এই বিশ্বকে বার বার প্রকটিত করে। তারপর তিনি ভোজনকারী (=প্রাণ বা চৈতন্যযুক্ত) এবং ভোজন রহিত (=অচেতন) তাবৎ বস্তুতে ব্যাপ্ত হন।। (৬১৯) এই পুরুষই এই সব যা কিছু, যা হয়েছে এবং যা হবে। তাঁর এক পদ-ই এই সকল বস্তু, আর দ্যুলোকে অমরণধর্মা তিন পদ অবস্থান করে।।

(৬২০) সেই পুরুষের মহিমা এরূপ হলেও তিনি তাঁর সৃষ্টির চেয়ে মহৎ। এর এই সর্বেশ্বরের অমৃতত্বের কারণ তিনি অন্নভোগের দ্বারা অতিরোহণ করেন (ভোগকে অতিক্রম করে ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন)।।

(৬২১) তাঁহা হতে বিরাট্‌ (=ব্রহ্মান্ড) জাত হয়েছে এবং তিনি সেই বিরাটে অধিষ্ঠিত পুরুষরূপে বিরাজমান। তারপর তিনি সেই ভাবে পৃথিবী এবং জীবদেহে অবস্থান করেও অতিরিক্ত রূপে (পৃথকভাবে) অবস্থান করেন।।

(৬২২) হে দ্যুলোক ও পৃথিবী, আপনারা শোভন পালয়িত্রী তা আমি জানি; আপনারা অপরিমিত ধন ও সুখ দান করুন; হে দ্যাবাপৃথিবী, আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করুন।।

(৬২৩) হে ইন্দ্র, তোমার রশ্মিসকল হরিৎবর্ণ, আর তোমার অশ্বদ্বয় (=দেশ ও কাল) সকল কিছু হরণকারী। কবিগণ, পুরুষগণ, জ্ঞানভক্তিযুক্ত সেবকগণ তোমাকে স্তব করেন।। (৬২৪) হিতরমনীয় যে জ্যোতি অথবা স্নিগ্ধ যে জ্যোতি, এবং সত্যস্বরূপ ব্রহ্মের যে জ্যোতি, তার সঙ্গে আমি যেন নিজেকে যুক্ত করতে পারি।।

(৬২৫) হে শব্দকারী (বা সত্য বাক্যযুক্ত) ইন্দ্র, তোমার পরাভবকারী তেজ ও বল আমাদের দাও। তুমিই মহৎ বলের ঈশ্বর। সৎকর্মের দ্বারা যে ধন লাভ হয় সেই পরম ধন ও অমিত শক্ত আমাদের দাও। আমাদের পাপনাশক শক্তির উপায় বলে দাও।।

(৬২৬) মনবাঞ্ছা পূর্ণকারী, সৎকর্মের সৃষ্টিকারী ও ধারক, হে অমৃতধারা, তোমরা আমাদের প্রাপ্ত হও; বিপুল এই বিশ্ব তোমাদের কৃপার অধীন হোক; তোমাদের অমৃতধারা আমাদের অনায়াসলভ্য হোক।

পঞ্চম খণ্ডঃ মন্ত্র সংখ্যা ১৪

(৬২৭) হে অগ্নি, তুমি আমাদের আয়ু দাও; বল ও অন্ন দাও; দুষ্ট প্রকৃতির দূরে রাখ।।

(৬২৮) অতি দীপ্ত সূর্যদেব মধুর সোম পান করুন, যজ্ঞকারীর (-সৎকর্মকারীর) আয়ু বৃদ্ধি করুন। তিনি বায়ু দ্বারা প্রেরিত হয়ে প্রজাদের স্বয়ং রক্ষা করেন, পালন করেন ও বহুরূপে বিরাজ করেন।।

(৬২৯) বিচিত্র রশ্মিসমূহের সমষ্টিরূপ সূর্য উদিত হয়েছেন; তিনিই মিত্র, বরুণ ও অগ্নির চক্ষুস্বরূপ; দ্যুলোক, ভূলোক ও অন্তরিক্ষ স্বীয় মহত্ত্বে পূর্ণ করেছেন। সূর্য স্থাবর ও জঙ্গমের আত্মা।।

(৬৩০) এই নানারূপ বিচিত্র বর্ণ গমনশীল অগ্নি (=সূর্য) পূর্বদিকে উদিত হয়ে মাতা পৃথিবীকে প্রাপ্ত হন, পরে দ্যুলোকে আকাশপথে গমন করেন।

(৬৩১) এঁর দীপ্ত এঁর দেহের মধ্যে (বা দ্যু ও পৃথিবীমধ্যে) বিচরণ করে, এবং এঁর প্রাণ হতে নিঃশ্বাসরূপে প্রাণবায়ু নির্গত হয় (=এঁর প্রাণই বাহিরে নির্গত হয় প্রাণবায়ু রূপে); ইনিই দ্যুলোকে বিপুলাকৃতি ধারণ করে ব্যাপ্ত হন।।

(৬৩২) তিরিশ স্থানে ইনি বিরাজ করেন (=সৌর মাস তিরিশ দিনের কথা বলা হয়েছে); পতঙ্গের মত গমশীল এই সূর্যের উদ্দেশে স্তব উচ্চারিত হয়। তিনি দিবারাত্র নিজ করণে উদ্‌ভাসিত।।

(৬৩৩) সর্বজগতের প্রকাশক সূর্যের উদয়ে নক্ষত্রগণ রাত্রির সঙ্গে চোরের মত পালিয়ে গেল।।

(৬৩৪) দীপামান অগ্নির মত সূর্যের প্রজ্ঞানরূপ, রশ্মিসকল মানুষদের লক্ষ্য করতে করতে চলেছে।।

(৬৩৫) হে সূর্য, তুমি ক্ষিপ্রগামী, বিশ্বদ্রষ্টা ও জ্যোতির কারক। তুমি সমস্ত দীপ্ত বস্তুকে প্রকাশিত কর।

(৬৩৬) হে সূর্য দেবগণের প্রজাবৃন্দকে (=রশ্মি দ্বারা সৃষ্ট জীবদের) দেখবার জন্য পশ্চিম দিকে মুখ করে উদিত হও (=পূর্বদিকে উদিত হও পশ্চিমমুখী হতে), মানুষদের দেখবার জন্য (পূর্বদিকে) পশ্চিম মুখ হয়ে উদিত হও, সর্ব জগতকে দেখবার জন্য (পূর্বদিকে) পশ্চিম মুখ হয়ে উদিত হও।

(৬৩৭-৬৩৮) হে বরুণ (=সূর্য) হে পবিত্রতাকারক, তুমি যে অনুগ্রহ দৃষ্টিতে জনগণমধ্যে অবস্থিত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সৎকর্মানুষ্ঠানকারীকে দর্শন করে থাক, সেই অনুগ্রহ দৃষ্ঠিতে, হে সূর্য, তুমি রাত্রির সঙ্গে দিনকে সৃষ্টি করে, জাত প্রাণিসমূহকে অবলোকন করে দ্যুলোক এবং মহান অন্তরিক্ষলোক নানাভাবে পরিভ্রমণ কর।।

(৬৩৯) রথবাহক সাতটি অশ্বকে (=সপ্ত রশ্মিকে) সূর্য তাঁর রথে যুক্ত করলেন, স্বয়ংযুক্ত সেই অশ্বের সহায়তায় তিনি গমন করছেন।।

(৬৪০) হে সূর্যদেব, সাতটি অশ্ব তোমাকে রথে বহন করে; হে সর্বদ্রষ্টা, জ্যোতিই তোমার কেশ

সামবেদ-সংহিতা – মহানাম্নী আর্চিক

(৬৪১) হে মহাধন, তুমি সর্বজ্ঞ; তুমি আমাদের স্তুতি জান; আমাদের সৎমার্গ প্রদর্শন কর। হে বহুধন, হে হবু কর্মের অধিপতি, আমাদের ধন দান কর।। (৬৪২)

হে ইন্দ্র, হে প্রশস্ত জ্ঞানযুক্ত, তুমি আমাদের ভক্তিভাব জান। তুমি অন্ন ও ধনলাভের নিমিত্ত হও; আমাদের প্রার্থনা শোন।

(৬৪৩) হে বজ্রধারী ইন্দ্র, ধন ও অন্নদানে তোমার প্রসাদ আমাদের ওপর নেমে আসুক। হে দেব, হে বলিষ্ঠ, হে বজ্রী, সম্পদ লাভের দ্বারা আমাদের সমৃদ্ধ কর। হে মহান দাতা, সোমপানের জন্য এস; সোমপানে হৃষ্ট হও।।

(৬৪৪) হে বজ্রী, ধন রক্ষার জন্য সুবীর্য দান কর। তুমি অন্নবলের অধিপতি, আমাদের কামনা জেনে, হে মহান দাতা, হে বজ্রী, হে বলীয়ানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলশালী, আমাদের অতিদানে সমৃদ্ধ কর।।

(৬৪৫) যিনি ধনসমূহের শ্রেষ্ঠদাতা, যিনি আদিত্যের ন্যায় দীপ্তি, সেই সর্বজ্ঞ ইন্দ্রকে আরাধনা কর। হে জ্ঞানবান ইন্দ্র, আমাদের লক্ষ্য করে ধন আন।।

(৬৪৬) সেই জাতা, অপরাজিত, দেব ঈশ্বরকেই আমাদের রক্ষার জন্য আহ্বান করি। তিনি আমাদের রিপু বিনাশ করে আমাদের কর্ম, ছন্দ, প্রভূত বারি সম্পদ দান করুন।।

(৬৪৭) জেতা ও অপরাজিত ইন্দ্রকে ধনলাভের জন্য আহ্বান করি। তিনি আমাদের দ্বেষ নাশ করুন, আমাদের রিপু নাশ করুন।।

(৬৪৮-৬৪৯) হে মেঘবিদারক ইন্দ্র, তোমার যে চিরায়ত ধন, তোমার মত্ততার জন্য যে সোমরস আছে, তা আমাদের দাও। হে নিবাসপিদ, আমাদের সুখ দাও। হে বলিষ্ঠ, তোমার পূর্ণ দান সকলেই চায়, কারণ তুমি সর্বনিয়ন্তা, শক্তিমান। হে প্রভু, হে বৃত্রহন্তা, হে চিরনূতন, তুমি ও আমি অবশ্যই সৎকর্মে ও সদালাপে নিযুক্ত থাকবো। যে ইন্দ্র অন্ন-বাক্‌-জল দানে সমর্থ, তিনিই সখা, শোভন সুখকর, কেবল সত্যস্বরূপ (=মনে ও মুখে এক)।।

(৬৫০) হে অগ্নি, তুমি এইরূপই (=তোমার প্রশংসা বা গুণ এইরূপ)। হে ইন্দ্র, তুমিও এইরূপ; হে পূষন্‌, তুমিও এইরূপ; হে দেবগণ, তোমরাও এইরূপ; হে দেবগণ, তোমরাও এইরূপ।।