২০১১ সালের ইকোনোমিস্ট এর প্রতিবেদন ও বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের রুপ রেখা

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর এক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে৻

দ্য ইকোনমিস্ট-এর ৩০ জুলাই সংখ্যায় এক প্রতিবেদনে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে কিছু নেতিবাচক বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে৻

প্রতিবেদনে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিচক্ষণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে৻

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার চিঠিতে এই সাময়িকীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার অভিযোগ আনলো৻

চিঠিতে বলা হয়েছে তাদের প্রতিবেদনটিতে ভুল তথ্য এবং তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে৻

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করার সময় ‘‘ব্যাগ-ভর্তি ভারতীয় টাকা‘‘ আর উপদেশের সাহায্য পায় বলে যে কথা দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, বাংলাদেশ সরকার তাকে নির্ভেজাল মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে৻

বিশ্বজুড়ে দ্য ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনটি সোজা-সাপ্টা কথা বলার জন্য পরিচিত৻

বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সে জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা-বিষয়ক নীতি-নির্ধারকরা এই সাময়িকীতে প্রকাশিত তথ্য এবং বিশ্লেষণ বেশ গুরুত্বের সাথে নেন৻

সাময়িকীতে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব দুর্নীতির যে কথা বলা হয়েছে, তা খন্ডন করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার বা মন্ত্রিসভার কেউ দূর্নীতি দিয়ে কলুষিত নয়৻

ভারত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা পেলে তা সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে যে আশঙ্কার কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, বাংলাদেশ সরকার সেটাকে বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করে বলে, ট্রানজিট থেকে দুদেশই লাভবান হবে৻

প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে কিছু ‘‘সামরিক গোছের‘‘ লোকজন আশংকা করছেন যে ভারত নাগাল্যান্ড বা মণিপুরে সমস্ত্র বিদ্রোহীদের দমনের জন্য বাংলাদেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করবে৻

এর ফলে বাংলাদেশ বিদ্রোহীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন৻

আরো চমকপ্রদ ঘটনা হবে যদি ভারত বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করে চীন সিমান্তে মোতায়েন করা তার সামরিক বাহিনীকে রসদ সরবরাহ করতে যায়৻

বিশ্বজুড়ে খ্যাতি

অনেক বাংলাদেশী আক্ষেপ করে বলেন যে, বাংলাদেশ যদি ভারতীয় সামরিক বাহিনীর এক বিশাল জংশনে পরিণত হয়, তাহলে চীনের পাল্টা-আঘাত বাংলাদেশের উপরেই এস পড়তে পারে৻

বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে চীনের বিষয়টির সরাসরি উত্তর দেওয়া হয়নি৻

তবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ শুধু ভারত নয়, এই অঞ্চলের সব দেশের সাথেই যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে৻

সাময়িকীতে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়েই ড মুহাম্মদ ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অব্যাহতি দিয়েছে৻

কিন্তু সরকার তা অস্বীকার করে বলেছে শেখ হাসিনা নিজেই গ্রামীণ ব্যাংক এবং ড: ইউনুসকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হতে সহায়তা করেছিলেন৻

দ্য ইকোনমিস্ট তার প্রতিবেদনে ভারত সরকারকে শেখ হাসিনার উপর অতি-নির্ভরশীল না হতে উপদেশ দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে ক্ষমতার উপর শেখ হাসিনার সরকারের নিয়ন্ত্রণ টেকসই নাও হতে পারে৻

সাময়িকীটির মতে, শেখ হাসিনা ক্রমশ স্বৈরাচারী হয়ে উঠছেন এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনে তার চির প্রতিদ্বন্দী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় চলেও আসতে পারেন৻

সাময়িকীটির মতে, মিসেস জিয়ার পরিবার দুর্নীতিগ্রস্ত বটে, কিন্তু শেখ হাসিনা ভারতের প্রতি যত ইতিবাচক, খালেদা জিয়া ঠিক ততই নেতিবাচক৻

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *