তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি এবং আমাদের বাংলাদেশ :প্রথম অধ্যায়

তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তথ্য ও যােগাযোেগ প্রযুক্তি
নবম-দশম শ্রেণি

  1. তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি এবং আমাদের বাংলাদেশ
  2. কম্পিউটার ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা
  3. আমার শিক্ষায় ইন্টারনেট
  4. আমার লেখালেখি ও হিসাব
  5. মাল্টিমিডিয়া ও গ্রাফিক্স
  6. ডেটাবেজ-এর ব্যবহার

তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি এবং আমাদের বাংলাদেশ

বিগত শতাব্দীতে সম্পদের যে ধারণা ছিল, একুশ শতকে এসে সেটি পুরােপুরি পাল্টে গেছে। পৃথিবীর সবাই মেনে নিয়েছে যে, একুশ শতকের সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান। যার অর্থ কৃষি, খনিজ সম্পদ কিংবা শক্তির উৎস নয়, শিল্প কিংবা বাণিজ্যও নয়- এখন পৃথিবীর সম্পদ হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

তার কারণ শুধু মানুষই জ্ঞান অন্বেষণ করতে পারে, জ্ঞান ধারণ করতে পারে এবং জ্ঞান ব্যবহার করতে পারে। পৃথিবীর সম্পদের এই নতুন ধারণাটি সারা পৃথিবীতেই মানুষের চিন্তাভাবনার জগতটি পাল্টে দিয়েছে। পৃথিবীর মানুষ এখন একুশ শতকের মুখােমুখি হওয়ার জন্যে আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।


আমরা সবাই অনুভব করতে পারছি একুশ শতকের পৃথিবীটা আসলে জ্ঞানভিত্তিক একটা অর্থনীতির ওপর দাঁড়াতে শুরু করছে।

একুশ শতকে এসে আমরা আরাে দুটি বিষয় শুরু করেছি- যার একটি হচ্ছে Globalization, অন্যটি হচ্ছে Internationalization। এই দুটি বিষয় ত্বরান্বিত হওয়ার পেছনের কারণটি হচ্ছে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি। যেকোনাে দেশের ভৌগােলিক সীমানা বিশ্বায়নের কারণে নিজের দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাপারটি বােঝার জন্যে আমরা আমাদের বাংলাদেশের উদাহরণটিই নিতে পারি। আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তারা যে যেখানে আছে সেই অংশটুকুই বাংলাদেশ। এক অর্থে বাংলাদেশের সীমানা ছড়িয়ে গেছে।

আবার বাংলাদেশের অধিবাসী হয়েও তারা পৃথিবীর অন্য দেশের নাগরিক হয়ে বেঁচে আছে, আন্তর্জাতিকতা এখন এই নতুন পৃথিবীর অলিখিত নিয়ম। আমরা জানি, পৃথিবীর মানুষকে এক সময় বেঁচে থাকার জন্যে পুরােপুরি প্রকৃতির অনুকম্পার ওপর নির্ভর করতে হতাে। মানুষ বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কার করে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এনেছে। অষ্টাদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দীতে শিল্প বিপ্লবের পর মানুষ যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে পৃথিবীর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। পৃথিবীর যে সকল জাতি শিল্প বিপ্লবে অংশ নিয়েছিল, এক সময় তারাই পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।


Internet users in 2015 as a percentage of a country’s populationS

একশ শতকে যখন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সূচনা হয়েছে, তখন আবার সেই একই ব্যাপার ঘটছে। যারা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরি করার বিপ্লবে অংশ নেবে তারাই পৃথিবীর চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করবে। এই নতুন বিপ্লবে অংশ নিতে হলে বিশেষ এক ধরনের প্রতুতি নিতে হবে সেটি আমরা অনুভব করতে পারি।


যদি আমরা বেঁচে থাকার সুনির্দিষ্ট দক্ষতাগুলাে দেখতে চাই। তাহলে সেগুলাে হবে পারস্পরিক সহযােগিতার মনােভাব, যােগাযােগ দক্ষতা, সুনাগরিকত্ব, সমস্যা সমাধানে পারদর্শী, বিশ্লেষণী চিন্তন। দক্ষতা (Critical Thinking), সৃজনশীলতা এবং তার সাথে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিতে পারদর্শিতা

সত্যি কথা বলতে, তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিতে পারদর্শিতা সবচেয়ে প্রয়ােজনীয় দক্ষতা (Skill) হিসেবে খুব দ্রুত স্থান করে নিচ্ছে। একুশ শতকে টিকে থাকতে হলে সবাইকে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির প্রাথমিক বিষয়গুলাে জানতে হবে। এই প্রাথমিক বিষয়গুলাে জানা থাকলেই একজন এটি ব্যবহার করে তার বিশাল বৈচিত্র্যের জগতে প্রবেশ করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী যতক্ষণ পর্যন্ত এই প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সংযােজন, মূল্যায়ন করে নতুন তথ্য সৃষ্টি করতে পারবে না। এই দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে সে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে স্থান করে নিতে পারবে না।

তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির বিকাশে উল্লেখযােগ্য ব্যক্তিত্ব।

তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির আজকের বিকাশের পেছনে রয়েছে অনেক বিজ্ঞানী, ভিশনারি, প্রকৌশলী এবং নির্মাতাদের অবদান। তার এবং তারহীন যােগাযােগ ব্যবস্থা, কম্পিউটারের গণনা ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাইক্রোইলেকট্রনিক্সের বিকাশ বর্তমানে আইসিটিকে মুঠোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। আধুনিক কম্পিউটারের বিকাশ বা প্রচলন শুরু হয় চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) [১৭৯১-১৮৭১)

নামে একজন ইংরেজ প্রকৌশলী ও গণিতবিদের হাতে। অনেকে তাকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলে থাকেন। তিনি তৈরি করেন ডিফারেন্স ইঞ্জিন। ১৯৯১ সালে লন্ডনের বিজ্ঞান জাদুঘরে চার্লস ব্যাবেজের বর্ণনা অনুসারে একটি ইঞ্জিন তৈরি করা হয়। দেখা যায় যে, সেটি সঠিকভাবেই কাজ করছে এবং পরবর্তীতে তিনি এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামে একটি গণনা যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন।

চার্লস ব্যাবেজ তবে গণনার কাজটি কীভাবে আরাে কার্যকর করা যায় সেটি নিয়ে ভেবেছিলেন কবি লর্ড বায়রনের কন্যা অ্যাডা লাভলেস (Ada Lovelace) (১৮১৫-১৮৫২)। মায়ের কারণে অ্যাডা ছােটবেলা থেকে বিজ্ঞান ও গণিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজের সঙ্গে তার পরিচয় হলে তিনি ব্যাবেজের এনালিটিক্যাল ইঞ্জিনকে কাজে লাগাননার জন্য প্রােগ্রামিং’-এর ধারণা সামনে নিয়ে আসেন। এ কারণে অ্যাডা লাভলেসকে প্রােগ্রামিং ধারণার প্রবর্তক হিসেবে সম্মানিত করা হয়। ১৮৪২ সালে ব্যাবেজ তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ইঞ্জিন সম্পর্কে বক্তব্য দেন। সে সময় অ্যাডা ব্যাবেজের সহায়তা নিয়ে পুরাে বক্তব্যের সঙ্গে ইঞ্জিনের কাজের ধারাটি বর্ণনা করেন। কাজের ধারা বর্ণনা করার সময় তিনি এটিকে ধাপ অনুসারে ক্রমাঙ্কিত করেন। অ্যাডার মৃত্যুর ১০০ বছর পর ১৯৫৩

Ada Lovelace portrait.jpg
অগাস্টা অ্যাডা বেরন
১০ ডিসেম্বর ১৮১৫

সালে সেই নােট আবারাে প্রকাশিত হলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, অ্যাডা লাভলেসই অ্যালগরিদম অ্যাডা লাভলেস। প্রােগ্রামিংয়ের ধারণাটা আসলে প্রকাশ করেছিলেন। ব্যাজ আর আর এই কার্যক্রমের পাশাপাশি সে সম

পদার্থবিজ্ঞানে পুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়। বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক মাগুয়ল (James Clerk Maxwell) (১৮৩১-১৮৭১) তড়িৎ চৌম্বকীয় বলে ধারণা প্রকাশ করেন, যা কিনা বার্তা প্রেরনের একটি সম্ভবনাকে তুলে ধরে ।

বিনা তারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বার্তা প্রশে প্রথম সফল হন বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু কােমল মামিল (Jagadish Chandra Bose) (১৮৫৮-১৯৩৭)। ১৮৯৫ সালে জগদীশচন্দ্র বসু অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে এক খান থেকে অন্য স্থানে তথ্য প্রেরনে সক্ষম হন। কিন্তু তার এই আবিস্কার প্রকাশিত না হয় সার্বজনীন স্বীকৃতি পায়নি।

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রয়্যাল ইন্সটিটিউট, লন্ডন,
১৮৯৭ সন


তৰে, বেতার তরঙ্গ ব্যবহার লীল চন্দ্র বসু
করে একই কাজ প্রথম প্রকাশি হওয়ায় সার্বজনীন
স্বীকৃতি পান ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনি (Guglielmg Marcomi) (১৮৭৪-১৯৩৭)।

এ জন্য তাকে জাের করে আবিষ্কারক হিসাবেৰীকৃতি দেওয়া হয়।

ইন্টারনেট

বিশ শতকে ইলেকট্রনিক্সের বিকাশের পর প্রথমে আইবিএম কোম্পানি মেইনফ্রেম কম্পিউটার তৈরি করে। পর্যায়ক্রমে ১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসর আবিস্কৃত হলে সাশ্রয়ী কম্পিটার চৈরির পথ সুগম হয়। পুপন্সিয়েলমা আনি বিশ শতকের বাট-সত্তরের দশকে ইন্টারনেট প্রটোকল (Internet Protocol) ব্যবহার করে আরপানেটের (Arpanet) আবিস্কৃত হয়। বলা যায়, তখন থেকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটারসমূহের মধ্যে অলংযোগ বিকশিত হতে শুরু করে। আর এ বিকাশের ফলে তৈরি হয় ইন্টারনেট। ১৯৭১ সালে আরপানেট ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পালাপের সূচনা করেন আমেরিকার প্রাগ্রামার ক্লেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন (Ramond Samuel Tomlinson)তিনিই প্রথম ই-মেইল সিস্টেম চালু করেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *