দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় ৪৩ জন মারা গেছেন, নতুন আক্রান্ত ৩,৮০৯

ঢাকা, ২৮ জুন, ২০২০ (বাসস) : দেশে করোনা শনাক্তের ১১৩তম দিনে গত ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
গতকালের চেয়ে আজ ৯ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ৩৪ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে দেশে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৭৩৮ জন।
শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। গতকালের চেয়ে আজ মৃত্যুর হার দশমিক ০১ শতাংশ।
আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১৮ হাজার ৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৮০৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ৩০৫ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১৫ হাজার ১৫৭টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ৩ হাজার ৫০৪ জন। দেশে বর্তমানে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন।
নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২৩ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার ২ দশমিক ০৭ শতাংশ কম। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪০৯ জন। গতকালের চেয়ে আজ ২২৪ জন বেশি সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ১৮৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ৭২৭ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ১ শতাংশ কম।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪ টি। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৯টি।গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ৯৭৫টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৬৫টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৯৯টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৫ হাজার ১৫৭টি। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ২ হাজার ৯৪২টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ৩০ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ।
তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং ১৪ জন নারী। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছেন।
অঞ্চল বিবেচনায় এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২ জন, খুলনা বিভাগে ৩ জন, সিলেটে ৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন রয়েছেন। ৪৩ জনের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩০ জন, বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১২ জন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় ১ জনকে।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৫ হাজার ৯৮৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ২০২টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৪৮টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৪২১টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৬টি। সারাদেশে হয় ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ১০২টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৯৮টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮৯৮ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ১৯৬ জন এবং ২৪ ঘন্টায় সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৬০৫ জন, ছাড় পেয়েছেন ৫৯০ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৭১৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৪ হাজার ৫২৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৬১ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১০ হাজার ২২৭ জন। এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশন করা হয়েছে ২৪ হাজার ৮১০ জনকে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৩ হাজার ৯০ জনকে। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৭১ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৪০৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৩ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৪ হাজার ৫৯৮ জন।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ৫শ’টি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৫ লাখ ২৮ হাজার ২৪৫টি। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬৪টি। বর্তমানে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৬১টি পিপিই মজুদ রয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২১৭টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ ১১ হাজার ৭৫১টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪০৪ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ১ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ৩০৮ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮৮ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৭ জুন পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ২৬৩ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ১০ হাজার ৪৫৫ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৮৮ জন এবং এ পর্যন্ত ২০ হাজার ১৩৯ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৭ জুন পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৬ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ হাজার ৮৬৬ জন এবং এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৯১ হাজার ১২৮ জন বলে তিনি জানান।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।