.

দেশে ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৩৯ জন, মোট সুস্থ ৯৮,৩১৭

ঢাকা, ১৩ জুলাই, ২০২০ (বাসস) : দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৩৯১ জন।
গতকালের চেয়ে আজ ৮ জন কম মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ৪৭ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের দিনও এই হার ছিল ১ দশমিক ২১ শতাংশ। আগের দিনের চেযে আজ মৃত্যুর হার দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি।
আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৭০৩ জন। গতকালের চেয়ে আজ ৮৭৭ জন কম সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ৫ হাজার ৫৮০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৯৮ হাজার ৩১৭ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫২ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫০ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১২ হাজার ৪২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৯৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ৪৩৩ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১১ হাজার ৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৬৬৬ জন।
তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৯ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩৫৮ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১১ হাজার ২১০ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ১৪৮টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৭৭টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৪২৩ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১১ হাজার ৫৯ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ৩৬৪টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৮৯০ জন এবং নারী ৫০১ জন।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ০ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন।
মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন, রংপুর বিভাগে ২ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, খুলনা বিভাগে ৭ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৩ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৪ জন এবং বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ জন।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৮ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭৬, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৬৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭১৪ জন এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ১ হাজার ৪২ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে বিভাগওয়ারী ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ১৯৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২১ জন, খুলনা বিভাগে ১২৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৮৮ জন, সিলেট বিভাগে ১০৫ জন, রংপুর বিভাগে ৭৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৬ জন।
তিনি জানান, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৫টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৫১ জন এবং শয্যা খালি আছে ৪ হাজার ২৫৪টি। ঢাকা মহানগরীতে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪২টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ৮৭ জন এবং খালি আছে ৫৫টি শয্যা। ঢাকা মহানগরীতে ভেন্টিলেটর সংখ্যা ১৫০টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬৫৭টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৩১১ জন এবং শয্যা খালি আছে ৩৪৬টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৯ জন এবং খালি আছে ২০টি শয্যা। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভেন্টিলেটর সংখ্যা ৩৮টি। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ৭০২টি, ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮০৫ জন, খালি আছে ৫ হাজার ৮৯৭টি শয্যা। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১৯৩ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৮০ জন। খালি আছে ১১৩টি আইসিইউ শয্যা। সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৬৪টি, রোগী ভর্তি আছে ৪ হাজার ১৬৭ জন এবং খালি আছে ১০ হাজার ৪৯৭টি শয্যা।সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৭৪টি, রোগী ভর্তি আছে ১৮৬ জন এবং খালি আছে ১৮৮টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১১ হাজার ২৭৫টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ১৫৮টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১০৫টি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সিস্টেম অনেক হাসপাতালে চালু হয়েছে, অনেক হাসপাতালে চালুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৭৬৫ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৩৭১ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭১৩ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১৯ হাজার ৮৯৯ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৩৭ হাজার ২৭০ জনকে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৪০১ জনকে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৫ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ২৭৩ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬২ হাজার ২১১ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কোভিড ১৯ বিষয়ক সুরক্ষা সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির গ্লাভস মজুদ আছে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫ টি, বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও লেভেলের মাস্ক মজুদ আছে ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ২২৯টি, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৯০৬টি এবং গগলস ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৩০টি মজুদ রয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৬টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৪৯০টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৭৭ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় যুক্ত হয়েছেন ৩ জন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ৩০৬ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৩ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১২ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ১৭৩ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৩০ হাজার ২৪৭ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৫০ জন এবং এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৬৪০ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১২ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭০ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ২৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৫ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ২৮৫ জন এবং এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬১৭ জন বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বুলেটিন উপস্থাপনকালে নমুনা পরীক্ষা ও সংগ্রহের হার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা তথ্য বিশ্লেষণে দেখছি, আমাদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে অনেকগুলো ব্যাখ্যা দেয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, একজনের দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার দরকার হচ্ছে না। সুস্থতা ঘোষণার জন্যও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার দরকার হচ্ছে না। এ জন্য পরীক্ষার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তাছাড়া মন্ত্রণালয় পরীক্ষা করার জন্য একটি ফি নির্ধারণ করেছে। সে কারণেও কিছুটা কমতে পারে। তাছাড়া মানুষের মধ্যে আতঙ্ক অনেকটাই কমে গেছে। মানুষ অনেকটা স্বস্তিতে আছে বলা যায়। তারা পরীক্ষা করার বিষয়ে আগ্রহ কম দেখাচ্ছে।’
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।