.

সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান, অস্ত্র, গুলি ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার

ঢাকা, ১৯ জুলাই, ২০২০ (বাসস) : রিমান্ডে থাকা সাহেদকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, অর্থ আত্মসাতসহ প্রতারণার বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে নিয়ে শনিবার মধ্যরাতে উত্তরায় অভিযান চালিয়েছে ডিবি পুলিশ।
আজ রোববার ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডিবি সদস্যরা সাহেদকে নিয়ে উত্তরার ১১ নম্বরে সোনার গাঁও জনপথ সড়কের ৬২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে সাহেদের নিজস্ব একটি সাদা প্রাইভেটকার ছিল। সেই প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ডিবির সদস্যরা ৫ বোতল বিদেশি মদ, ১০ বোতল ফেন্সিডিল ও গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করে।
এরপরই অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে সাহেদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এ নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় সাহেদের বিরুদ্ধে ৫ টি প্রতারণা মামলাসহ ৭ টি মামলা রয়েছে।
এদিকে, গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে করোনার টেস্ট না করে রিপোর্ট দেয়ার প্রতারণার বিষয়টি সাহেদ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন।
এদিকে. ভুক্তভোগীদের কাছে সাহেদ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব জানিয়েছে, যারা সাহেদের ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি তাদেরকে নির্ভয়ে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় র‌্যাবের কাছে প্রায় শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাবার প্রাক্কালে সাহেদকে একটি বিদেশী অবৈধ পিস্তল ও ম্যাগজিন ভর্তি গুলিসহ গ্রেফতার করে এলিট ফোর্স র‌্যাব।
এর আগে গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ আদায়,জাল জালিয়াতি,প্রতারনাসহ বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে। পরে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। এরপর থেকে পালাতক ছিলেন মো: সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম।
গত ১৬ জুলাই সাহেদ এবং রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আর সাহেদের প্রধান সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীর দ্বিতীয় দফায় সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এই ৩ জনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি পুলিশ ।