.

দেশ গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৪২ জন, সুস্থ ১,৮০৫

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২০ (বাসস) : দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ১৩৭তম দিনে গত ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮০৫ জন।
গতকালের চেয়ে আজ ১ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ৪১ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৭৫১ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের দিনও এই হার ছিল ১ দশমিক ২৯ শতাংশ।
আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮০৫ জন। গতকালের চেয়ে আজ ৩৬ জন কম সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ৮৪১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ২০২ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ০১৪ শতাংশ বেশি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১২ হাজার ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৪৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ৩১৩ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১২ হাজার ৮৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ হাজার ৫৭ জন।
তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৬০৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১ হাজার ৯৭৬ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১২ হাজার ১৪৯ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ১৭৩ টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৮০টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৫০ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১২ হাজার ৮৯৮ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৮৪৮টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন এবং নারী ১২ জন। তাদের ৩৭ জন হাসপাতালে এবং বাসায় ৫ জন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২ হাজার ১৬৮ জন পুরুষ; ৭৮ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং নারী ৫৮৩ জন; ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন; দশমিক ৬৫ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩০ জন; ১ দশমিক ০৯ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮২ জন; ২ দশমিক ৯১ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৮৭ জন; ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৯০ জন; ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮১০; ২৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ১ হাজার ২৩৪ জন; ৪৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, রংপুর বিভাগে ২ জন, বরিশাল বিভাগে ২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ৩ জন এবং খুলনা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন। এ পর্যন্ত বিভাগওয়ারী মৃতের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৩৪১ জন; যা ৪৮ দশমিক ৭৩৫ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৯৬ জন, যা ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে ১৫২ জন, যা ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ; খুলনা বিভাগে ১৮১ জন, যা ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে ১০২ জন, যা ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ; সিলেট বিভাগে ১২৮ জন, যা ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ; রংপুর বিভাগে ৯৩ জন, যা ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৮ জন, যা ২ দশমিক ১১ শতাংশ।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৩৪ জন, ঢাকা মহানগরীতে আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৮১ জন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৩০৮ জন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ২১ জন। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮০৮ জন, সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৯৫ জন। সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৪৮টি, রোগী ভর্তি আছে ৪ হাজার ৩৫০ জন এবং শয্যা খালি আছে ১১ হাজার ৯৮টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫১৪টি, রোগী ভর্তি আছে ২৯৭ জন এবং খালি আছে ২১৭টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৩টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ২৯৬টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১১০টি।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৮২৪ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৭৯৬ জন। আইসোলেশন থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৬৯৯ জন এবং এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৭৮ জন ছাড় পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৫০৪ জনকে।
তিনি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৪২৯ জনকে। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৩২ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৫২ জন এবং এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৬ জন ছাড় পেয়েছেন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৯ হাজার ৫৬ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কোভিড ১৯ বিষয়ক সুরক্ষা সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির গ্লাভস ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৫৫০টি, বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও লেভেলের মাস্ক ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৯ হাজার ৯৭২টি, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৯ হাজার ২৭০টি এবং ফেইসশিল্ড ও গগলস ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে হাজার ১৯১টি।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৪১৩টি এবং এ পর্যন্ত ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯৩টি। ৩৩৩ এই নম্বরে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৮০ হাজার ১৭৬টি এবং এ পর্যন্ত ৯৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩টি। আইইডিসিআর’র হটলাইনে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ৯২৪টি এবং এ পর্যন্ত মোট ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৩ লাখ ২ হাজার ৪৮টি। সবগুলো মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৫১৩টি এবং এ পর্যন্ত ফোনকল সংখ্যা ১ কোটি ৭২ লাখ ২২ হাজার ৩৮৩টি।
করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৯৮ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ৬৩৬ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫৩৪ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ২ হাজার ৩৬৪ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৭১ হাজার ৯৩ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২১ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৪১ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩৩ জন এবং এ পর্যস্ত ৩৫ হাজার ১২১ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২১ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৩৭ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৮৩ জন এবং এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৮১ জন বলে তিনি জানান।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।