.

বাংলাদেশ-ভারত জেসিসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, অভিন্ন নদীর পানির হিস্যার বিষয় প্রাধান্য পাবে

আমিনুল ইসলাম মির্জা
নয়াদিল্লি, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ (বাসস) : বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশন (জেসিসি)’র আগামীকালের বৈঠকের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট, অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা, জ্বালানি, যোগাযোগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সীমান্ত ইস্যু প্রাধান্য পাবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর কোভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষিতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠেয় ৬ষ্ঠ জেসিসির এই বৈঠকে নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন।
নয়াদিল্লির কূটনীতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ছয়টি যৌথ নদী- মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার-এর পানি ভাগাভাগির চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা করতে এবং শিগগিরই জেআরসি বৈঠক করার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।
এসব বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশা প্রকাশ করেছে, আগামীকালের জেসিসির বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থগিত হয়ে যাওয়া যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) বৈঠকের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।
জেআরসির সর্বশেষ সভা ২০১০ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত বছর ভারত সফরের সময় দু’দেশই জেআরসির টেকনিক্যাল কমিটিকে হালনাগাদ তথ্য ও উপাত্ত বিনিময় এবং এ বিষয়ে একটি খসড়া কাঠামো তৈরি করার জন্য একমত হয়েছিলেন।
সূত্রগুলো গত সন্ধ্যায় বাসস’কে বলেছে যে, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন খাতগুলোর পর্যালোচনা ছাড়াও ‘মুজিব বর্ষ’ চলাকালীন ঢাকা ও নয়াদিল্লির অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে কমিশনের পঞ্চম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে ৬ষ্ঠ জেসিসির বৈঠকের আয়োজন করার কথা। পঞ্চম বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং তৎকালীন ভারতীয় পরররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাদের নিজ নিজ পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ জেসিসির বৈঠকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকগুলো হলো- বাংলাদেশের মধ্যম স্তরের ১ হাজার ৮০০ সরকারী কর্মচারির প্রশিক্ষণ, ঔষধি গাছপালার ক্ষেত্রে আয়ুষ ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ও সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) মধ্যে সহযোগিতা এবং হিরানন্দনী গ্রুপ এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মংলার ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুবিধার্থে সহযোগিতা।