.

প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় জমা দিন : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ প্রবাসী শ্রমিকদের তাদের কর্মস্থলে ফরত পাঠানো এবং তাদের জন্য নতুন কাজের বাজার সন্ধানের ব্যবস্থা সম্পর্কিত একটি পরিপুর্ন প্রতিবেদন পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে জমা দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকের সভাপতিত্বকালে এই নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও যারা বিদেশে গেছেন তাদের কিভাবে আরও ভালোভাবে কাজের সুযোগ করে দেওয়া যায় বা কিভাবে আরো দেশে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা যায় সে বিষয়ে আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উজবেকিস্তান ও কাজাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে নতুন শ্রম বাজার সন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। কারণ, বিদেশের কর্মসংস্থানের জন্য এই দেশগুলো পরবর্তী লাভজনক স্থান হতে পারে, বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
আনোয়ারুল ইসলাম আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে নতুন চাকরির বাজার অনুসন্ধানের বিষয়ে এবং পুরোপুরি আটকে থাকা প্রবাসী শ্রমিকরা যেসব দেশে কর্মরত ছিলেন তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন জমা দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কতৃর্ক গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ করা হয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অর্থমন্ত্রী সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যাতে করে সে দেশে বাংলাদেশ বিমানের আরো বেশি ফ্লাইট চালু করা যায়।
তিনি আরও যোগ করেন, অর্থমন্ত্রী মধ্য প্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সময়সীমা আরও বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন কারণ ২৪ দিনের সময়সীমার মধ্যে সৌদি প্রত্যাবাসীদের তাদের কর্মস্থলে প্রেরণ করা কঠিন হবে। তাই, ২৪ দিনের সময় আরও বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৯ সালে ৭ লাখ ১৫৯ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়, টার্গেট ছিল ৭ লাখ ১ হাজার। ২০২০ সালে টার্গেট ছিল সাড়ে সাত লাখ। কোভিড-১৯ এর কারণে গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছর এই সময়ে ৪ লাখ ৬ হাজার ৯৬২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছিল।
তিনি জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেকর্ড ১৮ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাওয়া যায়। যেটা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।


তিনি বলেন, আমরা কোভিডের কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম, কিন্তু এটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা একটা ভালো দিক।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৬ জন কর্মী দেশে এসেছেন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৮৬ জন ট্রাভেল পাস নিয়ে ফেরত এসেছেন। এদের পুনরায় ফিরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় ১ কোটির মতো মানুষ বাইরে থাকেন বা কাজ করেন। বড় সংখ্যক লোকজন ট্রাভেল করেন।
তিনি বলেন, ২৯ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউনের মধ্যে ৫ হাজার ৯৭৪ জন বিদেশ থেকে এসেছেন। এদের এয়ারপোর্টে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সৌদি আরবে যাওয়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কয়েকবার সময় বাড়ানো হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন, ওনারা আশ্বাস দিয়েছেন কনসিডার করছেন আরও বাড়ানো হবে, যাতে সবাই যেতে পারে।
আকামা পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, আকামা পরিবর্তন করার একটা ব্যবস্থা করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। কারণ, অনেক দেশ থেকে অনেক উদ্যোক্তা চলে গেছেন এবং আমাদের বেশিরভাগ লোকই বেসরকারি সেক্টরে চাকরি করেন। ’
করোনা ভাইরাসের এই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ক্ষমতা দেওয়া হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা বা এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভা বা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ চাইলে তা বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা বলে দিয়েছি, যেকোনো সেক্টর রেসপেক্টিভ মিনিস্ট্রিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা কর্তৃপক্ষ তারা নিজ বিবেচনায় ব্যবস্থা নেবেন। ’
তিনি বলেন, এরপরও তারা যদি মনে করে যে সাজেশন দরকার বা কোনো রুলিং দরকার মন্ত্রিসভার বা প্রধানমন্ত্রীর, আমাদের যদি রেফার করে তাহলে সেটা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু এখন অথরিটি তাদের কাছেই দিয়ে দেওয়া আছে। ’
চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের পর ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে ৩১ মে সীমিত পরিসরে অফিস ও ১ জুন থেকে গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয়। ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার।