.

ডিএসসিএসসি গ্র্যাজুয়েটগণ ২০৪১ সালের সৈনিক হিসেবে কাজ করবেন : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ (বাসস) : মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুণর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এর গ্র্যাজুয়েটগণ সেই ২০৪১-এর উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হবেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ডিএসসিএসসি’র কোর্স সমাপনী (২০২০-২১) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যারা গ্রাজুয়েশন লাভ করেছেন তারাই আমার সেই ২০৪১ এর উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হবেন। কাজেই, দেশকে যেন আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এবং দেশের ভাবমূর্তি যাতে উজ্জ্বল হয় সেদিকেই সকলকে দৃষ্টি রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, এই দেশ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন করেছি এবং এই দেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।’
স্বাধীনতার পর জাতির পিতার মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনকালে দেশকে যুদ্ধবিধ্বস্থ অবস্থা থেকে টেনে তুলে স্বল্পোন্নত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে যাওয়ার উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আরো অনেক দূর যাওয়া। আমাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার সক্ষমতা অর্জন করেছি।’
যে কারণে তাঁর সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ বছর ও ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে এবং সমগ্র গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের উন্নয়নে শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ নামে এক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে, মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ডিএসসিএসসি’র কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. জুবায়ের সালেহীন স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের কমান্ড্যান্টকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র প্রদানের অনুমতি প্রদান করেন শেখ হাসিনা।
এই কোর্সে ১৬টি বন্ধুপ্রতীম দেশের ৪৩ জন বিদেশী কর্মকর্তা এবং ১০ নারী কর্মকর্তাসহ ২২৫ জন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ শেষ করে এদিন পিএসসি অর্জন করেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ১ হাজার ২০৮ জন অফিসার এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী সদ্য গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আজ আপনাদের জীবনের একটি বিশেষ দিন। এ দিনটির জন্য দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস আপনাদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় করতে হয়েছে। আপনারা সমর বিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপর উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালনে এবং যে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’ তিনি বলেন, এটা মনে রাখতে হবে যে, পৃথিবীটা এখন গ্লোবাল ভিলেজ। কোন দেশ একক ভাবে চলতে পারে না। সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। এজন্য আমাদের জ্ঞানের পরিধিটাও অনেক বিস্তৃত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাসের কারণে সাম্প্রতিকালের বিশ^ স্থবিরতার প্রসঙ্গ টেনে এই সময়ে কোর্স সম্পন্ন করায় শিক্ষার্থী এবং ডিএসসিসি’র কমান্ড্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, নানা প্রতিকুলতা ও ঝুঁকিসহ কোভিড-১৯ মহামারির মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বছর ২০২১ এ পদার্পণ করেছি। করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব যখন স্থিমিত, তখন দেশের মানুষের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা দেশের অর্থনীতিসহ সকল উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সমর্থ হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায়, সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ নিজস্ব উদ্ভাবিত উপায়ে অত্যন্ত অল্প সময়ে ও কম খরচে নিরাপদ ই-লার্নিং সল্যুশন স্থাপন করে নিজ সার্ভার এবং ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নিরাপদ অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ফলে, একদিনের জন্যেও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়, উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের প্রাচীনতম ট্রাই সার্ভিস প্রতিষ্ঠান।
জাতির পিতা ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিল্লার তৎকালীন সামরিক একাডেমিতে প্রথম শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে বিদায়ী ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের চুম্বক অংশ উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা এমন একটি একাডেমি সৃষ্টি করবো, সারা দুনিয়ার মানুষ আমাদের এই একাডেমি দেখতে আসবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাস্তবে এটা আমরা করতে পেরেছি। আজকে আমাদের এই একাডেমি সারাবিশে^র কাছে বিস্ময় এবং সকলে এটা অনুভব করেন এবং এর প্রশংসা করেন।


চলবে…….

Go to Source
January 28, 2021
3:02 PM