.

কোভিড পরবর্তী বিনিয়োগ ঘাটতি মোকাবেলায় পিপিপিতে এডিবি’র সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ (বাসস): এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নিরপেক্ষ মূল্যায়ন বিভাগ (আইইডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডিবি’র উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোতে অবকাঠামো বিনিয়োগ ঘাটতি মোকাবেলার লক্ষ্যে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) সহায়ক একটি কৌশলগত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব দেশের সরকারগুলোর বাজেটে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পিপিপি এখন বেশি জরুরি।
রিপোর্টে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বে (২০০৯-২০১৮) এডিবির সহায়তা কর্মসূচি কিভাবে পিপিপি কার্যক্রমে সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাপটে ও প্রধান খাতগুলোতে পিপিপি’র চাহিদায় সর্বোত্তম সাড়া দিতে পারে তা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
পর্যালোচনার মেয়াদকালে এডিবি ২২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পিপিপি অন্তর্ভূক্তি অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরকারি ঋণ, বেসরকারি খাতের জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং উল্লেখযোগ্য পিপিপি সুবিধা সহ ১২৬টি কারিগরি সহায়তায় ২২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পিপিপির ক্ষেত্রে এডিবি’র সহায়তা ইতিবাচক উন্নয়নমূলক ফলাফল প্রদান করেছে, যার বেশিরভাগই বিনিয়োগ প্রবাহের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। সরকারী ও বেসরকারী প্রকল্প উভয় ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ প্রবাহ সরকারী অবকাঠামো তৈরিতে বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে, পিপিপি’র জন্য দীর্ঘমেয়াদে এডিবি’র আপস্ট্রিম সহায়তা বেসরকারী খাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি এবং ডাউনস্ট্রিম সহায়তা প্রকল্পের উন্নয়ন ও অর্থায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সুসমন্বিত ছিল না।
অর্থ মূল্য বিশ্লেষণের অভাব, সুবিধার তুলনায় উচ্চ ব্যয়, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উচ্চ ঝুঁকি এবং সংশ্লিষ্ট খাত ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের জন্য ন্যূনতম সমর্থন এডিবি’র অবদান হ্রাস করেছে।
আইইডি’র মহাপরিচালক মারভিন টেইলর-ডরমন্ড বলেছেন, সরকারী বা বেসরকারী খাতের চাহিদার প্রতি পুরোপুরি সাড়া দিতে হতে হলে, ব্যয়-সুবিধা ও অর্থ মূল্য বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকল্প বাছাই ও নির্বাচন করার জন্য স্থানীয় দক্ষতা গড়ে তুলতে অবকাঠামো পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়ে এডিবিকে সক্রিয়ভাবে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবকাঠামো ও সমাজসেবা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য তাদেরকে জোরালো ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক সাড়া প্রদান করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হালনাগাদ খাত, নিয়ন্ত্রক ও নীতি কাঠামোর অভাব ছাড়াও সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানধীন প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য এডিবি’র উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোতে পিপিপি বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
এডিবি’র পিপিপি প্রকল্পগুলোতে বেসরকারী প্রকল্প ডেভেলপার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদা পূরণে ঝুঁকি প্রশমন সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে সহজলভ্য নয়।
আইইডি’র পরিচালক নাথান সুব্রামানিয়াম বলেন, সুপরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত পিপিপিগুলো সরকারী খাতের ঝুঁকি দূর করতে পারে এবং কার্যকরভাবে বেসরকারী খাতে নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও আর্থিক দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারে।
এডিবির সরকারি নীতি ভিত্তিক ঋণ বাংলাদেশ, ভারত, মঙ্গোলিয়া, নেপাল ও চীনে উন্নত পিপিপি নীতি ও প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে।
এডিবি চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে পিপিপি সেন্টার উন্নয়ন, সরকার পরিচালিত অবকাঠামো তহবিল গঠনে সহায়তা ও স্থানীয় সরকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, উন্নয়নের সর্বাধিক সুফল পাওয়া ও সরকারের উপর আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যে প্রকল্প নির্বাচন ও অগ্রাধিকারের ব্যাপারে যতœশীল হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে এডিবিকে একটি পিপিপি দিকনির্দেশনাপত্র প্রস্তুত করা, কৌশলগতভাবে প্রকল্প প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, ঝুঁকি হ্রাস সামগ্রীর ব্যবহার ও পরিমাণ বৃদ্ধি করা, পিপিপি অবকাঠামো প্রকল্পে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগের সুবিধার্থে রাজনৈতিক ঝুঁকি ও আংশিক ঋণ গ্যারান্টি প্রদান করা এবং তাদের নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা উন্নত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

Go to Source
October 30, 2020
5:00 AM