.

জয়পুরহাটে হরেক রকম মাছের মেলা

জয়পুরহাট, ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ( বাসস) : জেলার কালাই উপজেলায় চলছে নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মাছের মেলা। মূলত এটা জামাইদের নিয়ে মাছের মেলা। এ দিনটিকে ঘিরে এখানে দিনব্যাপী চলে মাছ কেনা-বেচার উৎসব। এ দিনটির জন্য পুরো বছর অপেক্ষায় থাকেন কালাই উপজেলা বাসি।
প্রায় একশত বছর পূর্ব থেকে চলে আসা এ মেলায় নদী, দীঘি ও পুকুরে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছ কিনতে ক্রেতারা ও পাইকাররা ভিড় জমায়। এ অগ্রহায়ণ মাসে মাঠ থেকে নতুন ফসল কৃষকদের ঘরে উঠলেই নবান্ন উৎসবের আয়োজন করেন উপজেলার সকল কৃষকেরা। এ অনুষ্ঠান পালন করতে আসেন জেলা ও উপজেলায় অবস্থিত তাদের জামাই-মেয়ে ও বেয়াই-বেয়ানসহ আত্মীয়-স্বজনরা। এরজন্য উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে বসে মাছের মেলা। সেখানে প্রতিটি দোকানে সাজানো হয়ে থাকে বোয়াল, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাস, ব্রিগেট,বাঘাআইরসহ নানা ধরনের মাছ। সর্বোচ্চ ১৪ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে।
পঞ্জিকা অনুসারে আজ মঙ্গলবার পহেলা অগ্রহায়ণ। এ মাসের প্রথম তারিখে নতুন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত নবান্ন উৎসব। প্রতি বছরের অগ্রহায়ণ মাসের আমন ধান কাটার পর নবান্ন উৎসব আয়োজন করেন উপজেলার সকল কৃষকেরা। জেলা ও উপজেলাতে অবস্থিত তাদের জামাই ও আত্মীয়-স্বজনকে আমন্ত্রণ করেন এ নবান্ন উৎসবে। তাদের আমন্ত্রণে ওই অনুষ্ঠান পালন করতে যোগ দিতে আসেন জামাই-মেয়ে, বেয়াই-বেয়ান ও আত্মীয়-স্বজনরা। এ দিন যেন হয় গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ। কৃষকদের ঘরে ঘরে শুরু হয় নতুন চালের নবান্ন এবং চলে পিঠা-পুলি,পায়েস, ক্ষীর, খই ও মুড়ি। এ দিন কৃষকদের ঘরে হয় যেন এক মিলন মেলা। এ উপলক্ষে জেলার সর্ব বৃহৎ মাছের মেলা বসে উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে। এ এলাকার মাছ ব্যবসায়ীরা আগের দিন থেকেই পাঁচশিরা বাজারে তাদের আড়ৎ ঘরে জেলা-উপজেলার বিভিন্ন দীঘি, পুকুর, নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করেন। এ মাছের মেলা উপলক্ষে এ দিনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবি মানুষেরা উচ্চ মূল্যে ঐসব মাছগুলো ক্রয় করেন। এ বছরে মাছের মেলাতে বোয়াল, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাস, ব্রিগেট, বাঘাআইরসহ ৫ কেজি থেকে ১৪ কেজি ওজনের মাছের সমাগম হয়েছে। মেলায় মাছ বিক্রি করতে আসা মাছ ব্যবসায়ী মো.সাইফুল ও আব্দুল লতিফ বলেন, এ মাছের মেলার জন্য বিভিন্ন পুকুর, দীঘি ও নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়। কাতলা, রুই, মৃগেল ৭শ থেকে ৮শ টাকা কেজিতে এবং বাঘাআইর, বোয়াল ও চিতল মাছ হাজার থেকে ১২শ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও মাঝারি আকারের মাছ ৪৫০ টাকা থেকে ৫শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ২৫০ টাকা দরে ব্রিগেট ও সিলভার কার্প বিক্রি হচ্ছে।
মেলায় মাছ কিনতে আসা মুনীশ, বোলু ও জলিল বলেন, অন্য বছরের চেয়েএবার মাছের দাম একটু বেশী। মেয়ে-জামাইর জন্য কাতলা, ব্রিগেট ও রুই মাছ কেনা হয়েছে।

Go to Source
November 18, 2020
5:05 AM