.

কুমিল্লার সফল খিরা চাষি ফজলুল হক

॥ কামাল আতাতুর্ক মিসেল ॥
কুমিল্লা (দক্ষিণ), ৪ জানুয়ারি, ২০২১ (বাসস) : কুয়াশা ঝরা কনকনে শীতের সকালে কৃষক ফজলুল হক শীতে জুবুথুবু হয়ে তার ছেলে মুরাদকে নিয়ে ক্ষেত থেকে খিরা তুলছেন। খিরা তুলে বস্তায় ভরে বাজারে বিক্রির জন্য ভ্যান গাড়িতে তুলছেন। একদিন পরপর ক্ষেত থেকে খিরা তুলে স্থানীয় বাঙ্গড্ডা বাজারে ব্যবসায়ীদের নিকট পাইকারি দরে খিরা বিক্রি করেন। কৃষক ফজলুল হক ইতোমধ্যে খিরা চাষ করে লাভের মুখ দেখে একজন সফল কৃষক হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। গত ৪ বছরে প্রায় ৩ লাখ টাকার খিরা বিক্রি করেছেন। খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা লাভ মুখ দেখেছেন। খিরার পাশাপাশি তিনি বেগুনসহ অন্যান্য সবজিরও আবাদ করছেন। সফল কৃষক ফজলুল হকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের গান্দাছি গ্রামে। গত ২০১৫ সাল থেকে নিজের ১৮ শতক জমিতে খিরার আবাদ করেন। চলতি বছর নিজের ১৮ শতকের সাথে আরো ২৪ শতক জমি বন্ধক নিয়ে খিরার আবাদ করেন। স্থানীয়ভাবে খিরার চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় তিনি চলতি মৌসুমে আরো ২৬ শতক জমিতে খিরা চাষ করার সিন্ধান্ত নিয়েছেন। খিরার পাশাপাশি বেগুন চাষ করার জন্য বীজতলাও তৈরি করেছেন।
কৃষক ফজলুল হক বাসসকে জানান, বাংলা আশ্বিন মাসের শেষ দিকে খিরা ক্ষেত তৈরি করে বীজ বপন, আগাছা পরিষ্কার, সার, কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ করার দেড় মাসের মধ্যে ফলন তোলা শুরু হয়। প্রায় এক মাস পর্যন্ত খিরা বিক্রি করেন। খিরা চাষে শ্রম আছে। ক্ষেত তৈরী, খিরার চারা উঠার পর ঘুঘু পাখির হাত থেকে চারা রক্ষা করা, আগাছা পরিস্কার করতে হয়। এছাড়া খিরা গাছের পাতা কুচকে যাওয়া, লেদা পোকার আক্রমণ, পাতা পচা রোগ দেখা দেয়। সর্বশেষ ভাইরাসের আক্রমণে গাছ হলুদ হয়ে আস্তে-আস্তে মরে যায়। চোরের হাত থেকে খিরা ক্ষেত রক্ষায় রাতে পাহারা দিতে হয়। চোরের দল খিরা চুরি করতে গিয়ে ক্ষেত মাড়িয়ে ফেলে। সবদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়। তিনি আরো জানান, ক্ষেত থেকে একদিন পর-পর খিরা উত্তোলন করেন। প্রতিবার ৮ থেকে ৯ মণ খিরা উত্তোলন করেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর খিরার দাম ভালো। প্রতিমণ খিরা প্রথম দিকে ১৮শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। পরে প্রতিমণ ১৫শ, ১৬শ, ১২শ টাকা বিক্রি করছেন। শেষ দিকে খিরা ছোট হলে দামও কমে যায়। বর্তমানে খিরা ক্ষেত হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। যদি নষ্ট না হতো তাহলে আরো ৩ থেকে ৪ বার খিরা তোলা যেত।
ফজলুল হক চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০ মণ খিরা উত্তোলন করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখেছেন। কৃষক ফজলুল হকের ছেলে মুরাদ হোসেন ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। এখন বাবার সহযোগী হিসেবে নিয়মিত খিরা চাষে কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, কৃষকরা আমাদেরকে তাদের যে কোন সমস্যার কথা বললে সাথে-সাথে আমরা মাঠে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষক ফজলুল হককে আমরা সকল ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এছাড়া আমাদের স্থানীয় উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারাও তাকে নিয়মিত সহযোগিতা করছে।

Go to Source
January 5, 2021
5:00 AM