.

পরিকল্পনা মাফিক নির্দিষ্ট সময়ে এডিপি বাস্তবায়নে অগ্রগতি থাকতে হবে : শিল্পমন্ত্রী

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ (বাসস) : শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পরিকল্পনা মাফিক নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, এডিপি সময় অনুযায়ী ও পরিকল্পনা মাফিক বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জুন ২০২১’র মধ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকতে হবে।
প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম বাড়ানো ও চলমান প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নূরুল মজিদ মাহমুদ বলেন,মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রকল্প এলাকা ও কার্যক্রম পরিদর্শন করতে হবে। শিল্পমন্ত্রী আজ রোববার ২০২০-২০২১ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সম্পর্কিত ভার্চ্যূয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন।
শিল্প সচিব কে এম আলী আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও কর্পোরেশনের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকরা ভার্চ্যূয়াল মাধ্যমে এতে সংযুক্ত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ৩টি কারিগরি সহায়তা এবং ১টি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪শ’ ৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মোট বরাদ্দের মধ্যে জিওবিখাতে ১ হাজার ২শ’ ৭৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা, প্রকল্প সাহায্যখাতে ২ হাজার ৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নখাতে ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
সভায়, জানানো হয়, ডিসেম্বর-২০২০ পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর বিপরীতে ৯শ’ ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ অনুযায়ি শিল্প মন্ত্রণালয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা জাতীয় পর্যায়ের অগ্রগতির চেয়েও বেশী । জাতীয় পর্যায়ের অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়াও সভায় জানানো হয়, সারের সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার জন্য ১৩টি বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে দু’টি বাফার গোডাউন হস্তান্তর করা হয়েছে এবং গাইবান্ধা, শেরপুর ও যশোরের বাফার গোডাউন নির্মাণের কাজ এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন হবে। লোকবল বৃদ্ধি করে জুনের মধ্যে নির্মাণাধীন অবশিষ্ট বাফার গোডাউনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্যও এ সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা জন্য গঠিত ৭টি মনিটরিং টিমকে প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শন ও করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, কেউ কৃত্রিমভাবে সারের সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের কোথাও অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে পারে সে বিষয়ে বিসিআইসিকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি নির্মাণাধীন ১৩টি বাফার গোডাউনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। প্রতিমন্ত্রী চিনিকল স্থাপনে আগ্রহী বিদেশী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাব দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, নতুন-নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করে বিএসটিআই’র কার্যক্রমকে আগামী দিনে আরো শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী এসকল যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরামর্শ দেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের মান ও আর্থিক বিষয়ে কোন প্রকার অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Go to Source
February 1, 2021
5:00 AM