কেনিয়ায় পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত

নাইরোবি, ২৬ জুন, ২০২০ (বাসস ডেস্ক) : কেনিয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশগুলি চালালে তিন জন নিহত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কয়েকজন মোটরট্যাক্সি ড্রাইভার তাদের এক সহকর্মিকে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্যের দায়ে পুলিশের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানানোর সময় পুলিশ তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনব্যক্তি নিহত হয়।
পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় নগরী লেসসে সংঘর্ষের পর পুলিশ গুলি ছোড়ে।’ খবর এএফপি’র। পুলিশ ইন্সপেক্টর জেনারেল হিলারি মুটিয়ামবাই বলেন, ‘যেসব পুলিশ গুলি চালিয়েছে, আমি তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছি এবং এতোগুলো প্রাণহানির জন্যে আমরা অনুতপ্ত।’
পুলিশের বিৃতিতে বলা হয়, মোটর ট্যাক্সি ড্রাইভাররা এক কর্মকর্তার ওপর হামলা চালালে পুলিশ প্রথম গুলি চালায় এবং এতে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়। এতে আরো বলা হয়, পুলিশ থানায় ফিরে আসার সময় জনতা তাদের পিছু নিলে পুলিশ পরবর্তিতে আবারো গুলি ছুড়লে এতে আরো দুইজন নিহত হয়। মুটিয়ামবাই বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। তারা অবশই আইনের মুখোমুখি হবে।’
কেনিয়া পুলিশের অতিরিক্ত আইন প্রয়োগ ও বেআইনি হত্যাকান্ড চালানোর ব্যাপারে আরো ব্যাপক তদন্তের লক্ষ্যে মামলাটি দেশের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পোলিসিং ওভারসাইট অথোরিটি (আইপিওএ)-এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
কেনিয়ার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্চ মাসে করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারি সংস্থা কর্তৃক জারিকৃত কার্ফিউ চলাকালে নাইরোবির এক বস্তিতে ওই শিশুকে হত্যা করা হয়।
শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাতে পুলিশের জারিকৃত কারফিউ বলবৎ থাকা অবস্থায় নানান বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা দেখা দেয়। মার্চ মাসের শেষ দিকে ভাইরাসের কারণে লকডাউন শুরুর পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে এর আগে এক ডজনের বেশি লোককে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
এপ্রিলে মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যানরাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লু) কেনিয়ার পুলিশের বিরুদ্ধে, ‘শুরু থেকেই বিশৃংঙ্খল ও সহিংসভাবে কার্ফিউ জারির’ অভিযোগ আনে। কখনো কখনো লোকজনের রাস্তায় বের হওয়া ঠেকাতে পুলিশ মারধোর, টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে বলেও সংস্থাটি উল্লে করে।