.

ভারত চা পরিবেশনের জন্য সমস্ত রেলস্টেশনে পরিবেশ বান্ধব ‘কুলহাদ’ চালু করছে

।। আমিনুল ইসলাম মির্জা ।।
নয়াদিল্লি, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ (বাসস) : বিষাক্ত বর্জ্য হ্রাস এবং গ্রামীণ কুমোরদের উপার্জন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারত সারা দেশের ৭,০০০ রেলওয়ে স্টেশনে প্লাস্টিকের কাপের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব মাটির তৈরি ‘কুলাহাদ’-এ চা পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্ত রেলওয়ে স্টেশনে চা পরিবেশনের জন রঙ বা কোনো রাসায়নিক ব্যবহার না-করা এবং পরিবেশ বান্ধব হাতলবিহীন মাটির কাপ ‘কুলহাদ’ প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত প্ল্যাস্টিকমুক্ত দেশ গঠন এবং গরিবদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভারতের প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
ভারতের রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল স¤প্রতি এ ঘোষণা দেওয়ার সময় বলেন, কুলহাদরা কেবলমাত্র বিষাক্ত প্ল্যাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস করতে এবং পরিবেশকে বাঁচাতে সহায়তা করবে না, এটি কয়েক লাখ কুমোরকে কর্মসংস্থান এবং আয়ও দেবে।’
মন্ত্রী রাজস্থানের আলওয়ার জেলার দিগাওয়ারা রেলওয়ে স্টেশনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আজ দেশের প্রায় ৪০০ রেল স্টেশনে কুলহাদে চা দেওযা হয়েছে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো ব দেশের সব রেলস্টেশনে কেবল কুলহাদে চা বিক্রি করা হবে।’
পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রাক-মহামারীকালীন ভারতে প্রতিদিন ২৩ মিলিয়নেরও বেশি লোক ট্রেনে যাতায়াত করে। তাই যাত্রীদের গরম চা দিয়ে আপ্যায়নের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘কুলাহাদ’ প্রয়োজন।
রাজনীতিবিদ ও মৃৎশিল্প বিশেষজ্ঞ জয়া জেটলি স¤প্রতি মিডিয়াকে বলেন, ফলে এ পদক্ষেপ ভারতের মৃৎশিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ২ মিলিয়ন লোকের উপার্জন বাড়াতে। প্রায় ১৬ বছর আগে তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব সমস্ত রেল প্ল্যাটফর্মে ও ট্রেনে ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের কাপের পরিবর্তে মাটির কাপে চা পরিবেশনে ‘কুলহাদ’ পুনরায় চালুর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার নীতি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এবং প্ল্যাস্টিকের কাপের রাজত্ব বজায় থাকে।
যেহেতু ভারতে মৃৎশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে, সেহেতু সারা দেশে ট্রেন এবং রেল প্ল্যাটফর্মে ‘কুলহাদ’ ব্যবহারের এই সিদ্ধান্ত বিশেষত কোভিড সময়ে কুমোরদের আয় বাড়াতে বাড়তি সুবিধা দেবে।
ইস্পাত, মেলামাইন ও প্ল্যাস্টিক পণ্য মাটির পণ্যের স্থান দখল আজকাল ভারতের গ্রামাঞ্চলেও মৃৎশিল্পের চাহিদা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব ‘দিওয়ালি’ ও পুজোর সময় দিয়া বা প্রদীপের জন্য ছোট ছোট প্রচুর মৃৎপণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হয়। ফলে এ সময় কুমোরদের বেশ ভালো বেচা-বিক্রি হয়ে থাকে।

Go to Source
December 5, 2020
9:00 PM