.

দিল্লী ২৫ নভেম্বর হতে যুক্তরাজ্য থেকে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে

।। আমিনুল ইসলাম মির্জা ।।
নয়াদিল্লী, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ (বাসস) : বিশ্বজুড়ে নতুন ধরনের রূপান্তরিত করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে দিল্লী সরকার মঙ্গলবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২৫ নভেম্বর থেকে যুক্তরাজ্য ফেরতদের খুঁজে বের করা শুরু করেছে।
রাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দিল্লী সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা নজরদারী দল রিভার্স-ট্রান্সক্রিপশন পলিমেরাস চেইন রিয়েকশন (আরটি-পিসিআর) পদ্ধতি ব্যবহার করে এ সব যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতি রেখে এই সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লী সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরনের রূপান্তরিত করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে যুক্তরাজ্য থেকে আগত সকল যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যে নতুন রূপান্তরিত করোনা ভাইরাসটি সনাক্ত করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রিলিমিনারি মডেলিং ফলাফল অনুযায়ী, নতুন ধরনের ভাইরাসটি এর আগের ভাইরাসের চেয়ে অধিক রূপান্তরে ও ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। এটি আনুমানিক ৭০ শতাংশ বেশি রূপান্তরে সক্ষম।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাজ্য থেকে বিমানযোগে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী নগরীতে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এসওপি অনুযায়ী, অন্তত তিনটি কোভিড-১৯ চিকিৎসা কেন্দ্রে যুক্তরাজ্য ফেরতদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। এতে যাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে, তাদের চিকিৎসা করা হচ্ছে।
এদিকে, সোমবার ভারত সরকার ২৩ ডিসেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাথে সকল ফ্লাইট বাতিল করে একটি নির্দেশ জারি করেছে। নতুন ধরনের রূপান্তরিত করোনা ভাইরাস সার্স-কো ভি-২ সনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বের আরো বেশ কয়েকটি দেশ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভারতসহ বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশ যুক্তরাজ্যে আসা-যাওয়াসহ সকল ধরনের ভ্রমণের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ২১ সেপ্টেম্বর সনাক্ত হওয়া নতুন ধরনের রূপান্তরিত করোনা ভাইরাস ভিইউআই-২০২০১২/০-এর দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে এই পদক্ষেপটি জরুরি। নতুন করোনা ভাইরাসটি আগের ভাইরাসটির চেয়ে অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ও ২২ ডিসেম্বর নাগাদ যুক্তরাজ্যে ট্রানজিট নিয়ে ভারতে পৌঁছানো ফ্লাইটগুলোর সকল যাত্রীর আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা ভাইরাস সনাক্তকারী স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে।
পাশাপাশি, কর্ণাটক সরকার নতুন ধরনের এই রূপান্তরিত করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক আতঙ্কের প্রেক্ষিতে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নৈশ্যকালীন কারফিউ জারি করেছে।
মহারাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে কর্ণাটক চলতি সপ্তাহে নতুন করে কারফিউ জারি করল। নতুন ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটি ৭০ শতাংশ দ্রুত সংক্রমিত হয় হবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য থেকে আগত সকল যাত্রীকেই ৭২ ঘন্টার মধ্যে কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে ব্যাপক জনসমাগম এড়াতেই নতুন বিধি-নিষেধগুলো জারি করা হয়েছে।
কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ কে সুধাকরের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি জানায়, ‘২৩ ডিসেম্বর ও ২ জানুয়ারির মধ্যে ১০টার পর কোন ধরনের উৎসব উদযাপন করতে দেয়া হবে না। যে কোন ধরনের জনসমাগম বা অনুষ্ঠানের জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।’
সোমবার, মহারাষ্ট্র সরকার ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মুম্বাইসহ অন্যান্য শহরগুলোতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে।
সেপ্টেম্বর মাসে করোনার নতুন ধরনের রূপান্তরিত ভাইরাসটি সনাক্ত করা হয়। নভেম্বর মাসে লন্ডনে নতুন ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার এই হার দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। যুক্তরাজ্য ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও ইতালিতে ভাইরাসটিকে সনাক্ত করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, ভারতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ১,০০৭৫,১১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে এক দিনে ১৯,৫৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৬,১১১ জনে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৩০১ জন মারা গেছে।

Go to Source
December 24, 2020
12:04 AM